ভারতে মুসলিম নিধন ও সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা রুখতে বৈশ্বিক তৎপরতার আহ্বান বাবুনগরীর

0
ভারতে মুসলিম নিধন ও সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা রুখতে বৈশ্বিক তৎপরতার আহ্বান বাবুনগরীর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিহিংসার শিকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি এই নৃসংশতাকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে আল্লামা বাবুনগরী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হামলা সভ্য ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, উগ্রপন্থী বিজেপি সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতায় পরিচালিত এই সহিংস কর্মকাণ্ড ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা (Territorial Integrity) ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বক্তব্যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বাবুনগরী অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারীর বিদ্বেষপ্রসূত (Provocative) বক্তব্যই মুসলমানদের ওপর হামলার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ভোট না দেওয়ার অজুহাতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা একজন দায়িত্বশীল নেতার চরম নৈতিক স্খলন (Moral Failure) । এ ধরনের বক্তব্য হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দুটি বিশেষ আহ্বান জানানো হয় ভারত সরকারকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর চাপ প্রয়োগ করা। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সহিংসতার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানো এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে (Diplomatic Channels) কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মীর ইদরীস, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১৫ মে) চট্টগ্রাম মহানগরে বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বক্তাদের মতে, প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।