পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: গরু মহিষ জবাই নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হলো ‘ফিটনেস সনদ’

0
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: গরু মহিষ জবাই নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হলো ‘ফিটনেস সনদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ লাগার ১০ দিনের মাথায় রাজ্যের পশুপালন ও জবাই প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনলো নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য সচিবালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে বা রাস্তাঘাটে কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এছাড়া প্রতিটি জবাইয়ের আগে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফিটনেস সনদ’ বা উপযুক্ততার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর কঠোর প্রয়োগ। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ইতিপূর্বে এই আইনের প্রয়োগ শিথিল থাকলেও, বর্তমান সরকার কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের একটি রায় এবং ২০২২ সালের নির্দেশিকা অনুসরণ করে এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

এখন থেকে কোনো পশু জবাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সাথে একজন সরকারি পশু চিকিৎসকের (Veterinary Surgeon) যৌথ স্বাক্ষরিত সনদ লাগবে। এই সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার দুটি প্রধান শর্ত বেঁধে দিয়েছে:

পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। পশুটি প্রজনন বা কৃষিকাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হতে হবে। তবে বয়স ১৪ বছরের কম হলেও যদি কোনো পশু স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যায় বা কোনো অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনায় ছাড়পত্র মিলতে পারে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু কেবল পৌরসভার নিজস্ব কসাইখানা (Abattoir) অথবা স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। বাজার, জনসমাগমস্থল বা প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাইকে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নিয়ম অমান্য করলে দোষী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ হাজার রুপি জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এই অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ (Cognizable) হিসেবে গণ্য করা হবে।

যদি কোনো কর্তৃপক্ষ বা পশু চিকিৎসক যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ১৫ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতনের পর এটিই এই সরকারের নেওয়া প্রথম দিকের অন্যতম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকারের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।