সুন্দরবনে বনদস্যু ও বনরক্ষীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ: জিম্মি দশা থেকে ৪ জেলে উদ্ধার

0
সুন্দরবনে বনদস্যু ও বনরক্ষীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ: জিম্মি দশা থেকে ৪ জেলে উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে সক্রিয় বনদস্যু ‘করিম-শরীফ বাহিনী’র সঙ্গে বনরক্ষীদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে শরণখোলা রেঞ্জের দুর্গম সিঙ্গারটেক এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে দস্যুদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘শেলারচর টহল ফাঁড়ি’ এবং বিশেষ ‘স্মার্ট টিম’ (SMART Team) যৌথভাবে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছিল। সিঙ্গারটেক এলাকায় পৌঁছালে বনরক্ষীরা সশস্ত্র বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনীর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়েই দস্যুরা অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করে। বনকর্মীরাও বনের সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে জবাব দেন।

উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে বনরক্ষীদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দস্যুরা। প্রাণভয়ে তারা জিম্মি করা ৪ জেলে এবং নিজেদের ব্যবহৃত ট্রলার ফেলে গভীর জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বনরক্ষীরা আতঙ্কিত জেলেদের উদ্ধার করে শেলারচর টহল ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।

দীর্ঘ জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়া ৪ জেলে হলেন, মাসুম খান (শরণখোলা), মো. হাসান (শরণখোলা), নাছিম আলী (বটিয়াঘাটা, খুলনা), ইরাক শেখ (দাকোপ, খুলনা)

উদ্ধারকৃত জেলেরা জানিয়েছেন, মাছ ধরার সময় দস্যুরা তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে রেখেছিল। বন বিভাগের সময়োপযোগী অভিযানে তারা প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের ফেলে যাওয়া বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযানে একটি একনলা বন্দুক, একটি সচল কার্তুজ এবং দস্যুদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, পলায়নরত বনদস্যু করিম ও শরীফসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে বনের ভেতরে নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় দস্যুদের বিরুদ্ধে বন আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।