বংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সপ্তাহের ছুটির দিনে রাজধানীর কাঁচাবাজারের চিত্র যেন এক চরম বৈপরীত্যের প্রতিচ্ছবি। একদিকে সবজি ও ডিমের বাজারে দামের ‘অগ্নিমূল্য’ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, অন্যদিকে চাল ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ও দরপতন সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এনেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারের অস্থিরতায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও কচুক্ষেত, টাউন হল কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজির বাজারে তীব্র উত্তাপ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী মিন্টু শেখ জানান দীর্ঘশ্বাস যেন সাধারণ ক্রেতাদের প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, “প্রতিটি দোকানে দাম জিজ্ঞেস করছি আর অবাক হচ্ছি। এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে ঢুকলে এখন ব্যাগ ভরে না। হিসাব মিলাতে গিয়ে পছন্দের অনেক সবজিই তালিকা থেকে বাদ দিতে হচ্ছে।”
আজকের বাজার দরের চিত্র:
কাঁচা মরিচ ও আদা: গত সপ্তাহেও যে কাঁচা মরিচ ১০০ টাকার নিচে ছিল, তা আজ ১২০ টাকায় ঠেকেছে। আদার দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।
পেঁপে ও টমেটো: সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁপের দাম, যা এখন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১০০ টাকা কেজি। টমেটো মানভেদে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজি: করলা ও বেগুন মানভেদে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাবে পাইকারি বাজার থেকেই পণ্য বেশি দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হিসেবে পরিচিত ডিমের বাজার এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লাল ডিমের ডজনে ১৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান জানান, খামারিদের পক্ষ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ফিডের দামের দোহাই দিয়ে পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে।
সবজি ও ডিমের উত্তাপের বিপরীতে কিছুটা বিপরীতমুখী চিত্র দেখা গেছে চাল ও মাংসের দোকানে।
নতুন চালের প্রভাব: নতুন ধান বাজারে ওঠায় চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্রি ২৮ ও পাইজাম চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। চাল ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম আরও কমতে পারে।
মুরগির বাজার: সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে কিছুটা দাম কমেছে। ব্রয়লার: ১৭০ টাকা (কেজি প্রতি)। সোনালি: ৩২০-৩৪০ টাকা। দেশি: ৭৪০ টাকা (অপরিবর্তিত)।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাল ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সবজি ও ডিমের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হয়। ভোক্তা রফিকুল ইসলামের মতে, “আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অসাধু চক্রকে রোখা সম্ভব নয়।”
নিত্যপণ্যের বাজারের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি এখন সকল মহলের।

