শরীয়তপুরে পরকীয়া ও কলহের করুণ পরিণতি: স্বামীকে টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, ঘাতক স্ত্রী আটক

0
শরীয়তপুরে পরকীয়া ও কলহের করুণ পরিণতি: স্বামীকে টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, ঘাতক স্ত্রী আটক

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ পারিবারিক কলহের জেরে শরীয়তপুরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। হত্যার তিন দিন পর লাশের খণ্ডিত অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত আসমা আক্তার। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে জিয়া সরদার ও আসমা আক্তারের বিয়ে হয়। এটি ছিল উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। সম্প্রতি জিয়া প্রবাস থেকে ফেরার পর সেই বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকার ভাড়া বাসায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা তার স্বামী জিয়ার মাথায় লোহার রড দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে আসমা আক্তার বীভৎস পথ বেছে নেন। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে মরদেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন এবং একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাসায় লুকিয়ে রাখেন।

হত্যার পর প্রায় তিন দিন আসমা মরদেহের টুকরোগুলো নিজের কাছেই রাখেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। তবে বিপত্তি ঘটে যখন তিনি মরদেহের মাংসের অংশগুলো পালং এলাকায় তার আগের ভাড়া বাসার ফ্রিজে রাখতে যান। তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনতা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে আটক করে।

আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর পাড় থেকে নিহতের হাত ও পা উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, “আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওকে বিয়ে করেছিল। দেশে ফিরে সে আলাদা থাকত। এমন নির্মম মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। ঘটনার দিনও ঝগড়া হয়েছিল এবং আত্মরক্ষার্থেই তিনি আঘাত করেছিলেন। তবে মরদেহ টুকরো করার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আসমা আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারো ইন্ধন বা সহযোগিতা ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।