দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

0
দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জনগণকে ভূমিসেবা পেতে আর কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হতে হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো এমন একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে সেবাপ্রত্যাশীদের অযথা অফিসে অফিসে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সরকারপ্রধান উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতের কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সাথে ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে, যার ফলে নাগরিকরা এখন অনেক সহজে, দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে সেবা পাচ্ছেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, এই ভূমিসেবা মেলা তারই অংশ।” তিনি যোগ করেন, শুধু ভূমি খাতই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায় এবং পর্যায়ক্রমে ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন করে ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন “ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে।”

দেশে বিচারাধীন ৪৭ লাখেরও বেশি মামলার একটি বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আদালতের পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এবং গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ভূমি কেবল একটি সম্পদই নয়, বরং এটি মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতি এবং জীবিকার ভিত্তি। তাই এই খাতের জটিলতা দূর করা জরুরি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, জনগণকে সেবা দেওয়া কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

আজ থেকে সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই মেলার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় নাগরিকরা সরাসরি যেসব সেবা পাবেন, ই-নামজারি (e-Namjari), অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান গ্রহণ ও রেকর্ড সংশোধন, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি

বক্তব্যের শেষে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।