ফায়ার সার্ভিসের রূপান্তর: জনবল বাড়ছে ৩০ হাজারে, যুক্ত হচ্ছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স ও নতুন স্টেশন

0
ফায়ার সার্ভিসের রূপান্তর: জনবল বাড়ছে ৩০ হাজারে, যুক্ত হচ্ছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স ও নতুন স্টেশন

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ অগ্নিদুর্ঘটনা ও যেকোনো দুর্যোগে দেশের মানুষের প্রধান ভরসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে নানামুখী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাহিনীর জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করার পাশাপাশি দেশজুড়ে নতুন ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, ১০০টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স যুক্তকরণ এবং নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ডুবুরি দল গঠনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। নাগরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নে বেশ কিছু বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুরোনো স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। জরুরি চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌ-দুর্ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করতে ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ৭২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ফায়ার সার্ভিসের সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশিতে উন্নীত করার প্রস্তাবটি বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া ফায়ার ফাইটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি অত্যাধুনিক ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি’ স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।” তিনি যোগ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই ফায়ার সার্ভিসের এই সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

‘গতি, সেবা ও ত্যাগ’—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন “যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় এই বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা এখন পরম নির্ভরতার প্রতীক। দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে সবার আগে ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের একটি অত্যন্ত গর্বের বাহিনী।”

পূর্বাচলের এই জমকালো প্যারেড অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।