বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন কাঁপানো দুই দুর্ধর্ষ বনদস্যু গ্রুপ ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ ও ‘দয়াল বাহিনী’র কবল থেকে অপহৃত ২১ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। দস্যু দমনে বনের গহীনে পরিচালিত বিশেষ কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় আজ শুক্রবার (২২ মে) ভোরে সুন্দরবনের বিভিন্ন দুর্গম পয়েন্টে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের মুক্ত করা হয়।
উদ্ধারের পর পরই জলদস্যুদের হাত থেকে ফিরে আসা ভাগ্যাহত ২১ জেলেকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় নিয়ে আসা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও মুক্তিপণের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল এই দুই দস্যু বাহিনী।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুর্গম ‘ফুসফুসের চর’ এলাকায় হানা দিয়ে মৎস্য আহরণরত ১২ জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর বাহিনী। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে বনের ‘ছাপড়াখালী’ এলাকা থেকে আরও ৬ জেলেকে অপহরণ করে একই বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা।
অন্যদিকে, সুন্দরবনের আরেক কুখ্যাত দস্যু ‘দয়াল বাহিনী’র হাতে জিম্মি ছিলেন আরও ৩ জেলে। তবে এই তিনজনকে ঠিক কবে, কোন পয়েন্ট থেকে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জেলেদের একের পর এক অপহরণের ঘটনায় উপকূলে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের বিশেষায়িত দল ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ ছক কষে বনের ভেতরে প্রবেশ করে।
আজ শুক্রবার ঊষালগ্নে কোস্ট গার্ডের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জলদস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানায় চারদিক থেকে ঘেরাও (কর্ডন) করে। কোস্ট গার্ডের এমন অতর্কিত ও মরণপণ অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে জিম্মি জেলেদের গহীন বনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দস্যুরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে জিম্মিদশা থেকে ২১ জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
কোস্ট গার্ডের হাত ধরে নতুন জীবন ফিরে পাওয়া ২১ জেলের মধ্যে ১৮ জনেরই বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর, সোনাতলা ও খুড়িয়াখালী এলাকায়। তারা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্য ব্যবসায়ীর অধীনে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেলে উদ্ধারের অনন্য এই সাফল্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, কোস্ট গার্ডের এই সফল ও সময়োপযোগী অভিযানে দস্যুদের হাত থেকে জেলেরা নিরাপদে ফিরে আসায় উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকদের মাঝে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বনকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে দস্যু বাহিনীর মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

