ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ধর্ষণের পর শিশু রামিসা হত্যার নৃশংসতায় যখন পুরো দেশ ফুঁসে উঠেছে, ঠিক তখনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ বছরের আরও এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের স্তব্ধকারী অভিযোগ উঠেছে। চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওই অবুঝ শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সরাইল উপজেলার তেলিকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী এবং এক সৌদি প্রবাসীর সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের ছেলে সহিদ মিয়া (৩০) শিশুটিকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতন শেষে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্ত সহিদ। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও আলামত নষ্ট করতে সহিদ নিজেই শিশুটিকে পাশের নদীতে নিয়ে গোসল করায় এবং বাড়ির সামনে এনে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ ও যন্ত্রণাকাতর হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। স্বজনরা কালবিলম্ব না করে রাতেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর থেকেই লম্পট সহিদ মিয়া এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরাইল থানা পুলিশ তদন্তে নামে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়েই আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছি। পরিবার থেকে এখনো লিখিত কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জঘন্য হওয়ায় পুলিশ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রকৃত জখম ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।”

