চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কক্সবাজার থেকে প্রাইভেটকারে করে রাজধানী ঢাকায় পাচারের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জোরারগঞ্জ থানার সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে প্রাইভেটকারের পেছনের ডালা (বেকডালা) থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭টি বিশেষ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো থেকে মোট ৭৬ হাজার ৬৮০ পিস আস্ত এবং আরও ৬২০ পিস ভাঙা ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদক পরিবহন করা প্রাইভেটকারের চালক ও মাদক কারবারি বাবু মোল্লাকে (৪৫) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার হকপাড়া এলাকার মৃত শফি মোল্লার ছেলে। একই সঙ্গে মাদক পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে একটি প্রাইভেটকার যাত্রী সেজে ঢাকার দিকে রওনা হয়েছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য আসে পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে মহাসড়কের থানার সামনে তাৎক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
রাত আড়াইটার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দিলে চালক বাবু মোল্লা গাড়ি না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরবর্তীতে গাড়িতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডালার নিচে প্লাস্টিক দিয়ে কয়েক স্তরে মোড়ানো ৭টি সুসজ্জিত প্যাকেট খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ১০ হাজার পিস করে ইয়াবা লুকানো ছিল।
অভিযানের বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা মধ্যরাতে চেকপোস্ট বসিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালানটি আটকে সক্ষম হই। জব্দকৃত প্যাকেটে আস্ত ইয়াবার পাশাপাশি ৬২০ পিস ভাঙা ইয়াবাও পাওয়া গেছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেপ্তার হওয়া বাবু মোল্লা আন্তর্জাতিক বা দেশীয় কোনো বড় মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। তাঁর নামে দেশের অন্য কোনো থানায় মাদক বা অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

