
আজকের ডেস্কঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কড়া সমালোচনা করে গণমাধ্যমে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনিস আলমগীর। ড. ইউনূসকে ‘আমেরিকার দালাল’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু সুবিধাভোগী দালালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশটাকে কার্যত বিক্রি করে দিয়ে চলে গেছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূসের বিদায়লগ্নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে আনিস আলমগীর বলেন “ড. ইউনূস এ দেশে আমেরিকার দালাল হয়ে এসেছিলেন। বিদায় নেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি নিজের সুবিধার্থে আমেরিকার সাথে একটি বিশেষ চুক্তি সম্পাদন করে গেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের আজীবন নিরাপত্তার স্বার্থে বিতর্কিতভাবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সুবিধাও নিজের নামে লিখে নিয়ে গেছেন।”
বিদায়ী সরকারপ্রধানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আরও বলেন, “এত বড় বেহায়া বিশ্ব আর কখনো দেখে নাই। তিনি যদি এতই ভালো শাসন ব্যবস্থা উপহার দিয়ে থাকেন, তবে বিদায়ের পর তাঁর এসএসএফের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়বে কেন? তিনি পর্দার আড়ালে এমন কিছু বিতর্কিত কাজ করে গেছেন, যার কারণে তিনি নিজেও জানেন যে—সাধারণ মানুষ কিংবা দেশের সমাজ সচেতন নাগরিকরা তাঁকে রাস্তায় দেখলে থুথু দেবে। মূলত এই জনরোষ ও গণধিক্কার থেকে বাঁচতেই তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়ার আগে নিজের জন্য এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্থায়ী বন্দোবস্ত করে গেছেন।”
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এই ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ড. ইউনূসের বিদায় এবং পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে যখন নানামুখী আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তথাকথিত ‘গোপন চুক্তি’ এবং বিদায়ের পর ‘এসএসএফ সুবিধা’ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনিস আলমগীরের এই বক্তব্য আগামী দিনগুলোতে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং জবাবদিহিতার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলবে। এখন পর্যন্ত এই বক্তব্যের বিষয়ে ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্র বা সংশ্লিষ্ট কোনো মহলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
