ডুপ্লেক্সের ছাদ টপকে কাঁধে তুলে অপহরণ: লাকসামে দলবল নিয়ে ভণ্ড মামার দুর্ধর্ষ তাণ্ডব, ১৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি সোনা লুট

0
ডুপ্লেক্সের ছাদ টপকে কাঁধে তুলে অপহরণ: লাকসামে দলবল নিয়ে ভণ্ড মামার দুর্ধর্ষ তাণ্ডব, ১৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি সোনা লুট

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার লাকসামে গভীর রাতে একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে ফিল্মি কায়দায় হামলা চালিয়ে এক কিশোরীকে অপহরণের রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। জেলের ভাত খেয়ে এসেই দলবল নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে, ছাদ টপকে কিশোরীকে কাঁধে তুলে নিয়ে গেছে তারই দূর সম্পর্কের এক মামা। এই দুর্ধর্ষ অপহরণের ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই পুরো কুমিল্লা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. মাসুদ (৩২), যার বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত কিশোরী স্মৃতির সাথে মাসুদের কথিত প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও স্মৃতিকে নিয়ে পালিয়েছিলেন মাসুদ। তখন কিশোরীর পরিবারের মামলার প্রেক্ষিতে ১৭ দিন পর স্মৃতিকে উদ্ধার এবং মাসুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাত্র ৮-১০ দিন আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মাসুদ। জেল থেকে বের হয়েই তিনি আরও বড় হিংস্রতার ছক আঁকেন।

সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে ফিল্মি স্টাইলে হানা দেয় মাসুদের বিশাল গুণ্ডাবাহিনী। তারা বাড়ির মেইন গেট ভেঙে এবং ছাদ বেয়ে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে। কিশোরীর মা-বাবাকে বেদম মারধর করে একটি রুমে আটকে রাখা হয়।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে স্মৃতিকে কাঁধে তুলে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর চারপাশ ঘিরে রেখেছে মাসুদের সশস্ত্র বাহিনী। যাওয়ার সময় তারা আলমারি ভেঙে নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিশোরীর অসহায় বাবা বলেন “মাসুদ জামিনে বের হয়েই আমার জীবনটা তছনছ করে দিল। রাত দুপুরে ডাকাত দলের মতো এসে আমাদের মারধর করল, ঘর থেকে নগদ ১৭ লাখ টাকা আর ৩০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে গেল আমার কলিজার টুকরাকে। আমার বাড়িতে ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, সবগুলোতে তাদের এই প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে। স্বাধীন দেশে এমন ফিল্মি অপহরণ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই আর এই ডাকাতদের কঠোর শাস্তি চাই।”

ঘটনার পর দুপুরে লাকসাম থানার ওসি কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের ট্র্যাকিং শুরু হয়েছে।

ওসি জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতে এভাবে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত মূলহোতা মাসুদসহ তার পুরো গুণ্ডাবাহিনীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।