স্বর্ণের কলসির লোভ দেখিয়ে শ্বাসরোধ ও আগুন: ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধূ খুনের রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন

0
স্বর্ণের কলসির লোভ দেখিয়ে শ্বাসরোধ ও আগুন: ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধূ খুনের রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় উদ্ধার হওয়া অর্ধপোড়া নারীর মরদেহের ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে উদ্‌ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অলৌকিক গুপ্তধন ও স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে নাসিমা নামের এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে সামশুল হক নামের এক ভণ্ড তান্ত্রিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে, নিহত নাসিমা রানীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক ক্ষমতা, ‘স্বর্ণের কলসি’ ও ‘স্বর্ণের পুতুল’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাসিমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন ওই তান্ত্রিক। ঘটনার দিন নাসিমা তার পাওনা স্বর্ণের জন্য তান্ত্রিক সামশুলকে তীব্র চাপ দেন। এতে ক্ষিপ্ত ও ভীত হয়ে সামশুল নাসিমাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সুনিপুণ পরিকল্পনা করেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার (১ জুন) ভোরে ভাতুড়িয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে নাসিমাকে ডেকে নেন সামশুল। সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের আচার বা বিশেষ পূজা পালনের অজুহাতে নাসিমার গলায় আচমকা দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাযজ্ঞের পর অপরাধ আড়াল করতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নাসিমার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেয় ঘাতক। তবে ভাগ্যবশত আগুন পুরো শরীরে ছড়ানোর আগেই নিভে যায়, ফলে নিহতের পেছনের অংশ কেবল অর্ধদগ্ধ হয়।

১ জুন সকাল ৭টায় স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে পুলিশ ভাতুড়িয়া এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে। জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের দিকনির্দেশনায় মাঠে নামে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম।

নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া জবানবন্দি, ভুক্তভোগীর অর্থ লেনদেনের ইতিহাস এবং আধুনিক প্রযুক্তির (আইসিটি) সহায়তায় নিমিষেই ঘাতকের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।

ঘটনার দিনই অভিযান চালিয়ে ভণ্ড তান্ত্রিক সামশুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ব্যবহৃত রশি ও আলামতসহ নাসিমার কাছ থেকে আত্মসাৎ করা নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ইতিমধ্যেই আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সামশুল দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক শক্তি ও গুপ্তধনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে নিখুঁত প্রতারণা করে আসছিলেন।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কোনো রাঘববোয়াল বা প্রতারক চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীরে তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।