ফিরোজ সুলতানঃ ঠাকুরগাঁও জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও জোরালো দাবির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল জেলার নতুন দুই প্রশাসনিক উপজেলা ‘ভুল্লী’ ও ‘রুহিয়া’। জমকালো ও ঐতিহাসিক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপজেলা দুটির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন দুই উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের ফলক উন্মোচন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী।
উপজেলা উদ্বোধনের খবরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সমগ্র ভুল্লী ও রুহিয়া এলাকায় এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। চারপাশ সেজে ওঠে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন “ভুল্লী ও রুহিয়াকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তর করা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এই দুই উপজেলার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনিক সেবা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।”
উপজেলা উদ্বোধনের পর নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।”
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন “এই সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যখন নতুন করে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন যেন আমরা আবার বিভ্রান্ত না হয়ে যাই। সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি হবে না, তবে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।”
বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একটি বড় কূটনৈতিক সফলতার কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাইপ্রাসকে পরাজিত করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। এটি একটি বিরল সম্মানের। বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশ আগামী এক বছর জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেবে।
সামাজিক সংস্কারের অংশ হিসেবে যুবসমাজ ও নারীদের প্রতি বিশেষ বার্তা দেন এলজিআরডি মন্ত্রী যুবসমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাদক একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। এ থেকে আমাদের যেকোনো মূল্যে মুক্ত হতে হবে।”
উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “নারীরা এমনিতেই সংগঠিত, তাদেরকে আরও সংগঠিত হতে হবে। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমেই সমাজে নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
ঐতিহাসিক এই উদ্বোধনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুর জব্বার এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মাহমুদ মামুনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।
প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক এবং পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। তারা নতুন এই দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনগণের দীর্ঘদিনের চাওয়ার এই প্রতিফলন স্থানীয়দের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী অত্যন্ত উছ্বসিত কণ্ঠে জানান, এখন থেকে আর সামান্য কাজের জন্য জেলা সদরে ছুটে যেতে হবে না। ঘরের কাছেই মিলবে উপজেলার যাবতীয় প্রশাসনিক সুবিধা, যা তাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমাবে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশের ও অঞ্চলের সমৃদ্ধি কামনা করে একটি বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয় এবং সমবেত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

