আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানি সামরিক বাহিনীর অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক তৎপরতা ও হুমকি ধূলিসাৎ করতেই এই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি এখনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনীর কড়া প্রহরায় প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে নিরাপদে পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও বসে নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ফলে সংঘাত কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
মাত্র গত মাসেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছিল। তবে চুক্তি সম্পাদনের কয়েক সপ্তাহের মাথায় গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় সেই শান্তিপ্রচেষ্টা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

