নৈতিক স্খলনের অভিযোগ: এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলের ওপর জামায়াতের চাপ

0
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ: এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলের ওপর জামায়াতের চাপ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি নিজে থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ না ছাড়লে, পদটি বাতিলের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন “গাজী নজরুল এখন আর জামায়াতের সদস্য নন, তাই তিনি দলের এমপি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার এমপি পদ বাতিলের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ও আইনগত যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে, তার সবই নেওয়া হবে।”

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ঘটনা তদন্তে জামায়াত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, বুধবার জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

ভিডিও বার্তায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী নিজেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, যা এমপি নিজে, তার প্রথম স্ত্রী এবং তরুণীর বাবা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী বিয়েটি ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে স্থানীয় কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানান, বিয়েটি আসলে গত ১৯ জুলাই নিবন্ধিত হয়েছে।

যদিও দেশীয় আইন অনুযায়ী দেরিতে বিয়ের নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে, তবে ঘটনার সময়সীমা ও বিভিন্ন তথ্যের অমিল নতুন করে আইনি বিতর্ক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, গাজী নজরুলকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি এখনও তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি যদি অবিলম্বে পদত্যাগ না করেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যান, তাহলেও তিনি সংসদে জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসতে পারবেন না। জামায়াতের সংসদীয় দলের সদস্যরা একযোগে তার বহিষ্কারকে সমর্থন জানিয়েছেন, যাতে সংসদে দলকে কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।