‘সংকটকালে ঢাল ছিলেন, তবে অন্তর্বর্তীকালে যথাযথ সম্মান পাননি’: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
‘সংকটকালে ঢাল ছিলেন, তবে অন্তর্বর্তীকালে যথাযথ সম্মান পাননি’: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চিত্র নিয়ে কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদটিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না, বরং এটিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আমানত মনে করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতার মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ আইনি সহায়তা দিলেও, মেয়াদের শেষভাগে এসে তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা ও কাজের স্বাধীন পরিবেশ দেওয়া হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা ইস্যুতে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতির কিছু পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনা থাকলেও, ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তর্বর্তী পর্বে তাঁর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

“২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত—দেশের ইতিহাসের অন্যতম চরম ও নাজুক সংকটকালে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন যে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে প্রশংসার দাবি রাখে। সেদিন রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে রাখা না গেলে অরাজকতা দেশকে গ্রাস করত। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওয়ার কথা থাকলেও, যথাযথ সম্মান দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, মো. সাহাবুদ্দিনের এই পদত্যাগ সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিক জটিলতা বা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে চান, সংবিধানে সেই পূর্ণ অধিকার দেওয়া রয়েছে।

সংবাদ বিবৃতির ইতি টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান প্রশাসন শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরকারি তপশিল ঘোষণা ও নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের নিয়মনীতি মেনেই দেশের সব কার্যক্রম গতিশীল রাখা হবে।