হিফজ বিভাগে গভীর রাতে শিশুকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন: ‘পলাতক’ মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার!

0
হিফজ বিভাগে গভীর রাতে শিশুকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন: ‘পলাতক’ মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার!

বরিশাল ব্যুরোঃ পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে বিশ্বাসের চরম আমানতদারির জায়গায় তৈরি হলো এক ভয়াবহ কলঙ্ক। বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক কোমলমতি আবাসিক ছাত্রকে গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর টানা সাড়ে তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ (২৬)।

শনিবার (১ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করেছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার ‘আল ইকরা দারুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা’র হিফজ বিভাগে পড়ালেখা করত ১২ বছর বয়সী ওই শিশু শিক্ষার্থী।

গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ ওই শিশুটিকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর মাদরাসার ভেতরেই পর্দার আড়ালে নিয়ে গিয়ে তার ওপর চালায় পাশবিক যৌন নির্যাতন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটি ঘটনাটি তার পরিবারের কাছে খুলে বললে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনেরা। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত ১১ এপ্রিল বাবুগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই ভুক্তভোগী শিশুকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে আইনি ব্যবস্থার বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ।

গ্রেপ্তারকৃত মাসুম বিল্লাহ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার চক হিয়াতপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগের পর থেকেই বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ আসামিকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) নাটোরের সিংড়ায় অভিযুক্তের নিজ বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

“দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর নিজ এলাকা থেকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। শনিবার (১ আগস্ট) তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” — বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ

পবিত্র দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে এই ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।