ওয়াহিদুর রহমান: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬নং ভবানীপুর ওয়ার্ডে ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃহত্তর মইয়ার হাওরে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২ আগস্ট (রোববার)সকাল ও বিকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রউয়ারকারা এলাকা থেকে মেহেন্দ্র দেবনাথ(৩৫) ও অধীর দেবনাথ(৩৬) নামক সর্বশেষ দুজনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এ-দিকে,১ (আগস্ট)শনিবার দিনভর সুনামগঞ্জ,সিলেট ও জগন্নাপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের যৌথভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫)এবং অরুণ দেবনাথ(৪৫)এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্হানীয়দের মারফতে জানাগেছে,৩১ জুলাই(শুক্রবার)সন্ধারাতে পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকা থেকে নয়জন লোক একটি নৌকা করে নিকটবর্তী ভরাউট নামক এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠানে যান।অনুষ্ঠান শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর নামকস্হানে পৌঁছে নৌকাটি ডুবে যায়। এ-সময় নৌকায় থাকা নয়জনের মধ্যে পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও চারজন পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে স্হানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ও সুনামগঞ্জ, সিলেট এবং জগন্নাথপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে শনিবার সকাল থেকে দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত,সুবল দেবনাথের পুত্র সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫),মৃত অনিল দেবনাথের পুত্র অরুণ দেবনাথ(৪৫) নামক দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
আজ রোববার সকাল ও বিকালে স্থানীয়দের সহায়তায় মইয়ার হাওরের রউয়ারকারা থেকে পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত,জগিন্দ্র দেবনাথের পুত্র হেমেন্দ্র দেবনাথ(৩৫) এবং একই এলাকার মৃত,অনিল দেবনাথের পুত্র অধীর দেবনাথ (৩৫)কে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন,নৌকা ডুবির ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে,পরবর্তীতে সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে বলে তিনি আস্বাস প্রদান করেন।
জগন্নাথপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান,নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

