গরু আসছে, চালান আটক হচ্ছে; নেপথ্যের কারিগররা অধরা!

0
গরু আসছে, চালান আটক হচ্ছে; নেপথ্যের কারিগররা অধরা!

আহম্মদ কবিরঃ কের পর এক ভারতীয় গরুর চালান ধরা পড়ছে, বিজিবির টহলে জব্দ হচ্ছে কোটি টাকার অবৈধ মালামাল; অথচ অধরাই থেকে যাচ্ছে এসব চোরাচালানের মূল কারিগররা। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও প্রশ্নের উত্তর মিলছে না—কারা পরিচালনা করছে মধ্যনগর সীমান্তের এই বিশাল চোরাচালান নেটওয়ার্ক?

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার একই সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৬টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ধারাবাহিক এসব অভিযানের পর সীমান্তজুড়ে এখন আলোচনার শীর্ষে—চোরাচালানের বিস্তৃতি ও নেপথ্যের হোতাদের প্রভাবের বিষয়টি।

বিজিবি সূত্র জানায়, সর্বশেষ রোববার (২ আগস্ট) ভোররাতে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গিছড়া সীমান্ত এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। জব্দকৃত গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এর আগে, গত ২৯ জুলাই একই উপজেলার বাকাতলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি স্টিলবডির নৌকাসহ আরও ২৮টি ভারতীয় গরু আটক করে বিজিবি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

অভিযানকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

একই রুট ব্যবহার করে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক গরু সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি—বাঙালভিটা ও বাকাতলা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সচেতন মহলের মতে, সীমান্তে বারবার এত বড় চালান ধরা পড়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সংঘবদ্ধ ও সুসংগঠিত চক্রের সক্রিয়তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। তাদের ভাষ্য “শুধু গরু কিংবা নৌকা জব্দ করলেই চোরাচালান থামবে না। এর নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী এবং রাজনৈতিক বা স্থানীয় সুবিধাভোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।”

সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সফল অভিযান চালিয়ে গরুগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত গরু শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”

বিজিবির কঠোর অবস্থানের মাঝেও সীমান্তবাসীর একটাই প্রশ্ন—গরু আটক হলেও নেপথ্যের ‘গডফাদাররা’ কেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে? মধ্যনগর সীমান্তের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পেছনে মূল কারিগর কারা, এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায় পুরো সীমান্তাঞ্চল।