প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ফের সংসার ও মালয়েশিয়া যাত্রা: ক্ষোভে এক্সকাভেটর দিয়ে স্বামীর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

0
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ফের সংসার ও মালয়েশিয়া যাত্রা: ক্ষোভে এক্সকাভেটর দিয়ে স্বামীর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ প্রেম, প্রতারণা, পারিবারিক নাটকীয়তা ও চরম প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে নাটকের আবহ তৈরি হয়েছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায়। প্রথম স্ত্রীকে রেখে বিদেশে অবস্থান, পরকীয়া সূত্রে বিচ্ছেদ, এরপর দ্বিতীয় বিয়ে এবং পুনরায় প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর জের ধরে ঘটে গেছে এক তুলকালাম কাণ্ড! স্বামীর এমন বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাড়া করে এনে আস্ত ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে প্রবাসী রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন আগে একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে রফিউদ্দিন মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে ছনিয়া খাতুন জনৈক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ঘর ছাড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় শালিস-বৈঠক হয়। সমঝোতা অনুযায়ী ছনিয়া সেই ইতালি প্রবাসীর সঙ্গেই থেকে যান এবং রফিউদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে।

দাম্পত্য ভাঙনের পর দেশে ফিরে রফিউদ্দিন নিজ গ্রামেরই মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী রিমার সঙ্গে মাত্র বছরখানেক সংসার করার পরই তৈরি হয় নতুন মোড়। রফিউদ্দিন গোপনে তাঁর প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোড়া লাগান। শুধু তা-ই নয়, প্রথম স্ত্রীকে পুনর্দখলে এনে একপর্যায়ে রিমাকে না জানিয়েই ছনিয়াকে নিয়ে আবারও মালয়েশিয়ায় উড়াল দেন তিনি।

স্বামীর এমন চাতুর্যপূর্ণ আচরণ, অবহেলা ও জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার বিষয়টি জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুন ও তাঁর পরিবার। প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে রোবাবার সকাল ১০টার দিকে একটি বিশাল এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাড়া করে রফিউদ্দিনের বাড়িতে হাজির হন রিমার স্বজনরা। মুহূর্তে প্রবাসীর বসতঘর ও স্থাপনা ভেঙে মাটি ও ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন:

“মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত স্বভাবের। একটি মেয়ের জীবন নিয়ে রফিউদ্দিন যেভাবে ছিনিমিনি খেলেছে, তা চরম অন্যায় ও অমানবিক। তবে যতোই ক্ষোভ থাক, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিলে তুলনামূলক ভালো হতো।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরায়েল জানান, খেজুরতলা গ্রামের ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে অবগত রয়েছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।