বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরদাম সহনীয় রাখা এবং কর্মাভাবকালীন অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে সারা দেশে পুরোদমে শুরু হয়েছে সরকারের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’। গত ১ আগস্ট থেকে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ তালিকাভুক্ত কার্ডধারী পরিবারের মাঝে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) জোরদার করতে সরকারের এই বিশেষ প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং খাদ্যসংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
দেশের ৪৯৫টি উপজেলার তালিকাভুক্ত ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার। প্রতিটি পরিবার মাসে ৩০ কেজি চাল পাবে, প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৫ টাকা।
বছরে মোট ৬ মাস— আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং পরবর্তী বছরের মার্চ ও এপ্রিল জুড়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের শারীরিক গঠন ও পুষ্টির মান বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ক্ষুধাই নয়, বরং সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান (Micro-nutrients) সংবলিত পুষ্টিচাল (Fortified Rice) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ চালের পাশাপাশি পুষ্টিচালে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, বি১, বি১২ ও ফোলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে স্বস্তি দিতে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (OMS) কার্যক্রম সমান্তরালভাবে চলছে।
সারা দেশে বর্তমানে ১,১০৮টি কেন্দ্রে (স্থায়ী দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে) সাশ্রয়ী দামে চাল ও আটা বিক্রি করা অব্যাহত রয়েছে। ওএমএসে সাধারণ বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল এবং নির্ধারিত দামে আটা কেনা যাচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের দৈনন্দিন খরচে ভারসাম্য আনছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চাল-গম প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংগ্রহের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশের সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত বর্তমানে বেশ সন্তোষজনক এবং অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সরকারি গুদামে বর্তমান মজুতের সামগ্রিক তথ্য (২ আগস্ট পর্যন্ত) মোট মজুত ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন, ধান (চালে রূপান্তরিত) ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন
ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সঠিক ব্যক্তির কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যাগ অফিসারদের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিলার কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত চালুর বিধান রাখা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। অভ্যন্তরীণ ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি পুষ্টি সুনিশ্চিত করা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতা ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

