নোয়াখালীতে পর্ন বানানোর আস্তানা উন্মোচন, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

0
নোয়াখালীতে পর্ন বানানোর আস্তানা উন্মোচন, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের ডেকে এনে আটকে রাখা হতো। এরপর মারধর ও জিম্মি করে চাবুক উঁচিয়ে বাধ্য করা হতো অনৈতিক কাজ, পর্ন ভিডিও তৈরি ও লাইভে। অবশেষে জিম্মি থাকা এক সাহসী তরুণীর গোপন কল ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ফাঁস হলো এই নির্মম পর্ন সিন্ডিকেটের আসল চেহারা।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চার জিম্মি তরুণীকে উদ্ধার করেছে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাসহ একই পরিবারের চারজন ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে এই চক্রটি ঘাঁটি গেড়েছিল। গোপন বার্তার ভিত্তিতে শুক্রবার সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

মূল চক্রের হোতা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং সহযোগী আব্দুর রহিম। আদালত ইতোমধ্যেই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর ও হাতিয়া এলাকা থেকে বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দিয়ে তুলে আনা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

চক্রের কবলে থাকা এক তরুণী কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে নিজেদের আকুতির কথা জানান। খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় জানা যায়, প্রতিবাদ করলেই তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে চাকু ও চাবুক দিয়ে নির্যাতন করা হতো।

ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ৬টি মোবাইল ফোন, নির্যাতনের সরঞ্জাম (চাবুক, চাকু, কাঁচি) এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক অনলাইন পর্নোগ্রাফি র্যাকেটের যোগাযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।