পীরগাছা প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পশ্চিমদেবু কদমতলা এলাকায় পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক বিধবা নারী ও তার তরুণ ছেলেকে বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনেরও অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী রেজিয়া খাতুন ও তার ছেলে রিয়াদ মিয়াকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেজিয়া খাতুন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানকে নিয়ে কষ্টের মধ্য দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন রেজিয়া খাতুন। ব্যবহৃত একটি ফ্রিজে খাবার রাখাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে তার দেবর জহুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রেজিয়া খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী রেজিয়া খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। সামান্য একটি ফ্রিজে খাবার রাখাকে কেন্দ্র করে দেবর জহুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ হয়। সেই বিরোধের জেরে গভীর রাতে তারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরে ঢুকে দরজা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লোহার রড ও গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। আমরা মা-ছেলে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।” আহত রিয়াদ মিয়া বলেন, “আমার মাকে মারধর করতে দেখে আমি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাই। তখন তারা আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে লোহার রড ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করে। হামলায় আমি গুরুতর আহত হই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “রিয়াদ আমার আপন ভাতিজা।
পারিবারিক শাসনের অংশ হিসেবে তাকে সামান্য মারধর করা হয়েছে। ভাঙচুর কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

