চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাদ পড়া এক ইমামের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী পরিবারকে দফায় দফায় বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার পরিবার মামলা দায়েরের পর গত ২ মাস ধরে ঘড়ছাড়া অবস্থায় রয়েছে, এমনকি তারা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেনি।
এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে নির্যাতনের শিকার ঘরছাড়া পরিবার। এনিয়ে রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খেসবা লাইনপাড়া গ্রামের রেলপাড়া জামে মসজিদের বহিস্কৃত ইমাম এহসান আলী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, একই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মইন ইউ আহম্মেদ দেলোয়ার। এসময় তিনি বলেন, আমাদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী এহসান আলী ইমামতি করা অবস্থাতেই অনলাইন জুয়ার কারবার করেন। বোর্ড বসিয়ে এলাকার তরুণ-যুবকদের অনলাইন জুয়া খেলান। এমনকি জুয়ার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বাড়ির সামনের দোকানে রাতভর আড্ডা ও জুয়ার প্রতিবাদ করায় তার চক্ষুশীল হয় আমাদের পরিবার। তিনি আরও বলেন, এহসান আলীর নেতৃত্বে তার শশুর দুরুল হোদা ও মামা আব্দুল, আজিজের প্রতক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের উপর দফায় দফায় ৭ বার হামলা, মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গত ২৮ জুন আমার বাবাকে মারধর করার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এখনো। গত ২ মাস ধরে হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে আমরা বাড়িতে যেতে পারছি না। কারন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এমনকি নানারকম হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেয়ায় ঘরছাড়া রয়েছি পুরো পরিবার।
ভুক্তভোগী মইন ইউ আহম্মেদ দেলোয়ার বলেন, আমাদের পুরো পরিবারকে কয়েক দফায় লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা করেছে। বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে তারা। এমনকি বাড়ির সামনে থাকা ধানের খড়ের স্তুপেও আগুন দিয়েছে তারা। গত ২৮ জুন হামলার পর জরুরি সহায়তা নাম্বার ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ আমাদেরকে উদ্বার করে। এঘটনায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের করলেও নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম ও নাচোল থানার ওসি সুকোমল দেবনাথ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে দাবি করেন মইন ইউ আহম্মেদ দেলোয়ার। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মইন ইউ আহম্মেদ দেলোয়ারের মা জোসনারা বেগম, বাবা রফিকুল ইসলাম, বোন ময়না খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এবিষয়ে অভিযুক্ত ইমাম এহসান আলী মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়টি জানার পরপরই ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলবেন না বলে জানান। অনলাইন জুয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মসজিদের ইমামতি নিজেই ছেড়ে দিয়েছি বলে জানান তিনি। মসজিদের ইমামতি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সালিসি বৈঠকের ভিডিও রয়েছে জানালে এহসান আলী কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল দেবনাথ জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। তবে উভয় পক্ষকে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে শুনেছিলাম। পরবর্তীতে আর কোন পক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তবে শুনেছি, তাদের অন্য একটি বাড়ি রয়েছে সেখানেই তারা থাকে। ঘটনার পর থেকে রেললাইনপাড়ায় থাকে না।

