শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) পদে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তদের একজন, সিএ ইনসান আলীকে বদলি করা হলেও অপকর্মের অন্যতম সহযোগী উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলাম বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা।
বিধবা মুক্তা হরিজনের অভিযোগ, সুইপার পদে স্থায়ী নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে গাড়িচালক রফিকুল ইসলাম ও সিএ ইনসান আলী তাঁর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মাত্র চার মাস পর জুন মাসে কোনো কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়।
চাকরি হারিয়ে পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারবার ধর্ণা দিয়েও ব্যর্থ হন মুক্তা হরিজন। নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে তৎপর হয়ে ওঠে অভিযুক্ত চক্রটি। রাতে ডেকে নিয়ে ঘুষের আংশিক টাকা ফেরত দিয়ে মুক্তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী এসব পদে স্থায়ী নিয়োগ প্রদান বা মাসে ২২ দিনের বেশি নিয়োজিত রাখার নিয়ম নেই। তবে ইনসান আলী, চালক রফিকুল ও ফটোকপি অপারেটর আ. মজিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব পদে নিয়োগ দিয়ে আসছিল।
সিন্ডিকেটের সদস্য আ. মজিদ ধলার ছোট ভাইকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মালী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাস্তবে পরিষদে দৃশ্যমান কোনো বাগান না থাকা সত্ত্বেও মাসের পর মাস সরকারি তহবিল থেকে তাঁর বেতন পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মুক্তা হরিজনের দাবি, সুইপারের কাজের বাইরেও ইউএনওর বাসভবনে গভীর রাত পর্যন্ত গৃহস্থালি কাজ ও অসুস্থ সদস্যদের সেবা করতে বাধ্য করা হতো। সামান্য ছুটির দাবি করায় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোতেই তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ১০ আগস্ট সিএ ইনসান আলীকে জেলা প্রশাসন বদলি করলেও চক্রের মূল হোতা ড্রাইভার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা আহমেদ জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক তদন্ত করে দেখছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, অভিযুক্ত চালক রফিকুল ইসলাম স্বপদে বহাল থাকলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। তাঁরা রফিকুলকে দ্রুত বরখাস্ত করে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

