‘টুকু আসে, টুকু যায়’: সংসদে জ্বালানিসংকট ও লোডশেডিং নিয়ে রুমিন ফারহানার তীব্র ক্ষোভ

0
'টুকু আসে, টুকু যায়': সংসদে জ্বালানিসংকট ও লোডশেডিং নিয়ে রুমিন ফারহানার তীব্র ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের আলোচনায় দেশের বর্তমান ভয়াবহ জ্বালানিসংকট, অব্যাহত লোডশেডিং এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রসাত্মক কটাক্ষের আশ্রয় নেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যের সময় রুমিন ফারহানা বলেন, বিদ্যুতের করুণ দশা নিয়ে দেশের সাধারণ ও দুষ্টু লোকেরা এখন বলাবলি করে—‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তারা নাকি বুঝতে পারেন না।’

নির্বাচনে যেখানে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে এরই মধ্যে ৯ শতাধিক কলকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যাঁরা এখনো কর্মরত আছেন, তাঁদের চাকরিও কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার তিনটি প্রধান বিষয় ছিল—আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা বিধান। অথচ এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি খাতের বেহাল দশা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করেন অথবা বাক্‌চাতুর্য দিয়ে মূল সমস্যা ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন ৩ জন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন, তেমনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দিলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারত।

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবনে হাহাকার তৈরি হয়েছে, তখন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।