ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ছুটিতে বাড়িতে এসে নির্মম বলির শিকার হয়েছেন ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত রাকিব রায়হান (৪০)। নিছক অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিতে দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে চেতনা হরণ, রড দিয়ে মাথায় আঘাত ও লাশ টয়লেটে নিয়ে মাংস কাটার খাইট্টায় রেখে ১৫ টুকরা করার মাধ্যমে সংঘটিত এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান হত্যার এমন রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত রাকিব রায়হানের কেয়ারটেকার রাজু মির্জা গত চার বছর ধরে তাঁর বাড়িতে কর্মরত ছিলেন। গত ২৭ জুলাই রাকিব ঢাকা থেকে ফুলবাড়িয়ার সোয়াইতপুর গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে এলে তাঁকে হত্যার চূড়ান্ত নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয়।
রাতে পানীয় দুধের সাথে কৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাকিবকে খাইয়ে দেওয়া হয়। তিনি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে রাজু ও তার সহযোগী জিতুল রড দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।
খুনের পর মরদেহ ঘরের টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গরুর মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত ভারী কাঠের ‘খাইট্টায়’ (গাছের গুঁড়ি) রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ ১৫টি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়।
এরপর টুকরাগুলো তিনটি পৃথক ব্যাগে ভরে পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে ফেলে আসা হয়। অপরাধের প্রমাণ লুকাতে রক্তমাখা ঘর ও বাথরুম নানা পরিষ্কারক সামগ্রী দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। পরে নিহতের নগদ টাকা, মূল্যবান সামগ্রী এবং ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও হাতিয়ে নেয় ঘাতকরা।
পুলিশ শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তমাখা পোশাক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে।
গত ২৪ জুলাই বাড়ি এসে ২৭ জুলাই নিখোঁজ হন রাকিব। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট ফুলবাড়িয়ার এনায়েতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে ভরা রাকিবের গলিত লাশের ১৫টি টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ আগস্ট নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

