
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিগত ১৭ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ‘দলীয় ভিত্তিতে’ ও জালিয়াতি করে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া নিয়োগের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে অনিয়মের সব তথ্য জাতির সামনে উন্মুক্ত করা হবে বলেও সংসদে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংসদে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক জানতে চান—বিগত সরকারের ১৭ বছরে দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না এবং গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলন চলাকালে লুট হওয়া অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কত।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিগত সরকারের সময়কার দলীয়করণ ও কোটা জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে হওয়া ভুয়া নিয়োগের তদন্ত কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং কিশোরগঞ্জ—এই চার-পাঁচটি জেলাকে কোটা অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার আসল বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও ডিস্ট্রিক্ট কোটার সুফল পেতে অন্যায়ভাবে জমি কিনে গ্রাম ও স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে পুলিশে চাকরি নেওয়া হয়েছে।
অনিয়ম ও ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং অন্যান্য পদবীতে সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হওয়া মাত্রই তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হবে।
