নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ১০ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেলের ভয়াবহ ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। নির্যাতনের মুখে বর্তমানে প্রায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ওই কিশোরী।
এই পাষণ্ড নির্যাতনের প্রধান হোতা হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল (৫০)-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি এবং পর্নোগ্রাফি ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের পরপরই বিএনপি থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রধান আসামি বকুল পলাতক থাকলেও তাঁর অন্যতম সহযোগী মো. আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এজাহার ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মেয়েটির দূরসম্পর্কের আত্মীয় (সম্পর্কে খালু) হওয়ার সুযোগ নিয়ে বকুল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই শোষণের ফাঁদ পেতেছিল।
মেয়েটি তখন কেবল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে প্রথম ধর্ষণ করেন বকুল এবং সেটির দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করে রাখেন।
পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার একাধিক স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হতো। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বকুলের এক নারী সহযোগীর মাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে তাকে ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে অন্যান্য পুরুষদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।
সম্প্রতি মেয়েটি পুনরায় তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বকুল গং সেই গোপন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামে থাকা তার বড় ভাই ভিডিওটি দেখতে পেয়ে পরিবারকে জানান।
পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মেয়েটি সব খুলে বলে। পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন কিশোরীটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
গত ২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার দিবাগত রাতে) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, নৈতিক স্খলন ও ফৌজদারি অপরাধে সম্পৃক্ততার দায়ে বকুল মিয়াকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সমস্ত পদ থেকে আজীবন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চায়নের পাশাপাশি পলাতক প্রধান আসামি বকুল মিয়াকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

