কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ পরিকল্পনাহীন সড়ক সংস্কারকাজ ও তদারকির অভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটে আটকে থেকে অ্যাম্বুলেন্সে আমিরুন্নেছা (৭০) নামে এক নারীর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত ওই নারীকে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় জরুরি চিকিৎসায় নেওয়ার পথে দাউদকান্দি এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পথেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে কুমিল্লা-ঢাকা লেনের দাউদকান্দিংশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই মহাসড়কে আটকে থাকা সাধারণ যাত্রী ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়।
নিহতের স্বজন তারেক আল হাসান জানান, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুন্নেছা শুক্রবার রাতে হঠাৎ তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ৮টার দিকে তাঁকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পরপরই যানজটের কবলে পড়ে। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে চালক বারবার সাইরেন বাজানো সত্ত্বেও যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে সরার মতো বিন্দুমাত্র জায়গা ছিল না। টানা চার ঘণ্টা এক জায়গায় স্থির আটকে থাকার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান তিনি।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে সড়ক সংস্কারকাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তবে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা বিকল্প রুট ট্রাফিকের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা ছাড়া ব্যস্ততম মহাসড়কে এই সংস্কার শুরু করায় আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর গড়িয়ে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেনি হাইওয়ে পুলিশ।
স্থবির মহাসড়কে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।
ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের যাত্রী হাবিব জানান, রাত আড়াইটা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত (সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায়) তারা মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হন।
যানবাহন চালকদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো লাইফলাইন মহাসড়কে সংস্কারকাজের আগে ট্রাফিক ডাইভারশন বা পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন না করায় এই মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মৃত্যুর বিষয়ে বলেন, “পুলিশের কাছে এ বিষয়ে পূর্ব তথ্য ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত খোঁজোখবর নিচ্ছি।”
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম জানান, আশরিয়ারচরে সংস্কারকাজের কারণেই গাড়ির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে মাঠে কাজ করছে।

