রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ পাহাড়ি পথ ও জলপথ ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের নতুন চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ব্যস্ততম মাইনীমুখ বাজারে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে নারীসহ নয়জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার ঘাট থেকে ১২ জনের একটি সন্দেহভাজন দল স্পিডবোট রিজার্ভ করে লংগদুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ট্রলার ও স্পিডবোটের রুট ব্যবহার করে তাদের মাইনীমুখ বাজারে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নজর এড়ায়নি স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বাজারে অবস্থানরত ৯ জনকে ঘিরে ফেলে এবং আটক করে। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সেখান থেকে চতুরতার সঙ্গে কেটে পড়ে দলের বাকি তিন সদস্য।
প্রাথমিক তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের সময় আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাব্বির, নুমাইর, শাওন, আব্দুল হাফেজ, নুরুল আমিন, মো. হোসেন, তৈয়ব এবং দুই নারী সাবিকুন ও তহুরা।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে, তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এসেছে। তবে সাধারণ কাজের সন্ধানে নাকি পার্বত্য এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী বা মানব পাচারকারী চক্রের মদদে তারা এতদূর এসেছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পালিয়ে যাওয়া বাকি তিনজনের কাছে কোনো অস্ত্র, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কিংবা অর্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বরজিৎ দে জানান, “আটককৃতদের পুলিশ হেফাজতে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের মূল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে পলায়নকৃত তিনজনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে লংগদু ও আশপাশের সীমান্ত ও নৌপথগুলোতে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

