চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে আসা পানির চাপে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনটি প্রধান নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় জেলাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার রোপা আউশ ধান ও মৌসুমি ফসলের ক্ষেত।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় নদীটি এখন বিপৎসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পদ্মার পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও।
মহানন্দা নদী: খালঘাট গেজ স্টেশনে বর্তমান পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার (বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার)।
পুনর্ভবা নদী: রহনপুর গেজ স্টেশনে পানি অবস্থান করছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটারে (বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার)।
পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, পাকা ও চর এলাকা এবং চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো জলমগ্ন হয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত, সুপেয় পানি, কৃষিকাজ এবং গো-খাদ্যের তীব্র সংকটে পড়েছেন। পানিতে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনি-রবিবার পর্যন্ত পদ্মাসহ স্থানীয় নদীগুলোর পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে সবকটি নদীই বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করায় বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বন্যার বড় কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব।

