বায়তুল মোকাররমের খতিব অপসারণের গুঞ্জনে চরম উত্তেজনা: জামায়াতবিরোধী স্লোগানে উত্তাল পল্টন

0
বায়তুল মোকাররমের খতিব অপসারণের গুঞ্জনে চরম উত্তেজনা: জামায়াতবিরোধী স্লোগানে উত্তাল পল্টন

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে দায়িত্ব থেকে অপসারণের চক্রান্ত ও গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গন। খতিবকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাত রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মুসল্লি ও আলেম-ওলামারা।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষ হতেই জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট এলাকা ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন জামায়াতবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যৌথ নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে আলেম ও দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মসজিদের খতিব কোনো দলের নন; তিনি মিম্বারের আমানত এবং সর্বস্তরের সাধারণ মুসলমানের নয়নের মণি। খতিব হিসেবে তিনিই বায়তুল মোকাররমে বহাল থাকবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।” সমাবেশ থেকে এক বক্তা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পকেটের বস্তু নয়। ইসলাম মহান আল্লাহর, তৌহিদী জনতার এবং সর্বস্তরের সাধারণ মুসলমানদের।”

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি মুফতি আব্দুল মালেকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভাবধারা এবং কওমি আলেমদের একাংশের জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে স্পষ্ট ভাষায় ‘গোমরাহি’ (পথভ্রষ্টতা) হিসেবে আখ্যা দিতে শোনা যায়।

একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লোগোতে ব্যবহৃত ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দগুচ্ছের প্রয়োগ নিয়ে চরম আপত্তি তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এ শব্দের মাধ্যমে ইসলামের ভুল ও বিকৃত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নিজের এই বক্তব্য উপস্থাপনকালে তাঁকে ভিডিওতে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকেই ইসলামিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক মেরুকরণ ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত রূপ নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র অনলাইন বিতর্কে। এর ধারাবাহিকতায়ই আজ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ ও স্লোগানের ঘটনা ঘটল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী ইসলামিক দলগুলোর ভেতরের মতাদর্শিক পার্থক্য ও দ্বন্দ্ব এই খতিব ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবার প্রকাশ্যে রূপ নিল।

তবে খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি কোনো ভূমিকা বা চক্রান্ত রয়েছে কি না—সে বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি এবং স্বতন্ত্রভাবেও এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বায়তুল মোকাররম ও পল্টন সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আলেম-ওলামাদের এমন কঠোর অবস্থানের পর এই জাতীয় ইস্যুটি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে পুরো দেশজুড়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।