বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানি তেল: কুয়েটের যুগান্তকারী উদ্ভাবন ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0
বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানি তেল: কুয়েটের যুগান্তকারী উদ্ভাবন ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহার করে দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের অভাবনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে বর্জ্য থেকে ‘বায়োক্রুড’ ও ডিজেলসমৃদ্ধ তেল উৎপাদনের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) বিশেষ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা দীর্ঘ ১০ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রদর্শনীতে কুয়েটের শিক্ষক ও প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রযুক্তির খুটিনাটি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

গবেষকরা জানান, এ প্রকল্পে ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (Hydrothermal Liquefaction – HTL) নামক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মানববর্জ্য ও পয়েন্টনিষ্কাশন বা পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, গৃহস্থালি ও রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য, এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ বা খড়কুটোকে প্রক্রিয়াজাত করে তেল প্রস্তুত করা হয়।

গবে গবেষণাগারের পরীক্ষায় ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড (Biocrude) উৎপাদনে সফলতা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি পরিশোধনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য ডিজেলসমৃদ্ধ জ্বালানি তৈরিতেও বড় অগ্রগতি এসেছে।

গবেষণাগারের সফলতা ছাড়িয়ে এখন প্রযুক্তিটির মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা ও উৎপাদন খরচ যাচাইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গবেষকরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি ‘পাইলট প্ল্যান্ট’ (Pilot Plant) স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত এই প্ল্যান্ট ও গবেষণা সম্প্রসারণে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা দিয়ে প্রযুক্তিটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।

বাঁচবে ১৩ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা, কমবে আমদানি নির্ভরতা, দেশে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ সম্ভব হলে তা জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে।

বর্তমানে দেশে আমদানিকৃত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এই দেশীয় বায়োক্রুড দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। তেল আমদানি কমায় প্রতি বছর দেশের আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা (বৈদেশিক রিজার্ভ) সাশ্রয় হবে। একদিকে দেশের তীব্র জ্বালানি সংকট নিরসন হবে, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান মিলবে।

প্রদর্শনী ও বিস্তারিত আলোচনা সভায় অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দেশীয় উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার তাগিদ দেন।