ধর্ম কুটুমের ফাঁদ: বাউফলে এক হিন্দু দম্পতী নিরুদ্দেশ

0
ধর্ম কুটুমের ফাঁদ: বাউফলে এক হিন্দু দম্পতী নিরুদ্দেশ

অতুল পাল: বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের ঘুরচাকাঠী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু দম্পতী ধর্ম কুটুমের ফাঁদে পড়ে দীর্ঘ দুই মাসাধিকাল পর্যন্ত নিরুদ্দেশ রয়েছেন। নিরুদ্দেশ হওয়ার পর ধর্ম কটুমরা ওই দম্পতীর বসত বাড়ি সহ প্রায় আড়াই একর সম্পত্তি দখলে নিয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কারো বিরুদ্ধে আইনী কোন পদক্ষেপ নেননি। জানা গেছে, উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত ঘুরচাকাঠী গ্রামের মৃত্যু: দেবেন্দ্র রক্ষিতের পাঁচ ছেলের মধ্যে দুই জন ভারতে থাকেন এবং বাকি তিন জনের মধ্যে এক জন লন্ডনে এবং এক জন দেশেই মারা গেছেন। অপর ছেলে নরেন রক্ষিত গ্রামের বাড়ি বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের ঘুরচাকাঠীতেই থাকতেন। এলাকাবাসীরা জানান, নরেন রক্ষিত এলাকায় গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে কাজ করতেন। তার এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। লিপি নামের এক মেয়েকে বরিশাল বিয়ে দিয়েছেন। বাকি তিন মেয়ে ও ছেলে বিদেশে থাকেন। লিপির ছেলে জয় লাল হাওলাদার জানান, এলাকার নিজাম ক্কারীর ছেলে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হারুন (৩৫) ও আল আমিন(৩২) নরেন রক্ষিতকে বাবা ডেকে ধর্ম কুটুম করেন। এরপর থেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন সময় নরেন রক্ষিতের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং জায়গা-জমির দলিল পত্র হাতিয়ে নেয় এবং এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নরেন রক্ষিত ও তার স্ত্রী বীনা রানীকে গ্রাম থেকে রাতের অন্ধকারে তারিয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নরেন রক্ষিতের বংশীয় একজন জানান, সত্য কথা বলা যাবেনা। তাহলে তাদেরকেও নরেন রক্ষিতের মতো অবস্থা হবে। তিনি আরো জানান, হারুন এবং আল আমিন জায়গা জমি হাতিয়ে নেয়ার পর চলতি বছরের রমজান মাসে রাতের অন্ধকারে তাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে বাকেরগঞ্জের ডিসি রোডের খেয়া পার করিয়ে বরিশাল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। এরপর তারা কোথায় গেছেন কি অবস্থায় আছেন আমরা কিছুই জানিনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নরেন রক্ষিতের এক প্রতিবেশি জানান, নরেন রক্ষিত ও তার ওয়ারিশগণের প্রায় কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। কৌশলে ওই সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুর রবের সহায়তায় হারুন ও আল আমিন নরেন রক্ষিতকে ধর্ম বাবা ডেকে কুটুম করেন। এঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিন ঘুরচাকাঠী গ্রামে গেলে সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কোন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে সাহস পাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে। এক নারী চোখের জল মুছে এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাবা আমাদেরকে জড়িয়ে কোন কিছু লেখবেন না। তাহলে আমরাও হারিয়ে যাব। গ্রামে ঘোরার সময় এক পর্যায়ে নরেন রক্ষিতের জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করতে দেখা গেল আল আমিনকে। জিজ্ঞেস করলে তিনি নরেন রক্ষিতের জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই বছর আগে নরেন রক্ষিতের থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে দুই একর জমি ক্রয় করেছি। দুই একর জমি মাত্র দুই লাখ টাকায় ক্রয় করলেন কি ভাবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি। আল আমিন আরো বলেন, গ্রামের অনেকের কাছেই নরেন রক্ষিত জমি বিক্রি করেছেন কিন্তু কারো জমিই বুঝিয়ে না দিয়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এব্যপারে ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব বলেন, আমাকে জড়িয়ে কিংবা আমার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে হারুন ও আল আমিন জমি দখল করেছে এটা সত্য নয়। নরেন রক্ষিত গ্রাম ছাড়ার আগে আমাকে বলে গেছেন। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।