সুপারিতে সয়লাব লক্ষ্মীপুর, দাম পাচ্ছেন না কৃষক

0

তাবারক হেসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের অন্যতম অর্থকারী ফসল সুপারির বাণিজ্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে চাষিদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, সুপারিকেন্দ্রিক গবেষণা বাড়ানো ও শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে এই ফসল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রায়পুরসহ জেলার ৫টি উপজেলায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে এ সুপারি আবাদ হয়ে থাকে। কেউ ফসলি জমিতে, কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউবা বাগান করে সুপারি চাষ করছেন। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ, তাই আবাদও বাড়ছে দিন দিন। চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন। এসুপারি উৎপাদনের সাথে প্রায় দুই হাজার পরিবার জড়িত।

বাজারে ৮০টি সুপারির প্রতি পোন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। ১৬ পোনের প্রতি কাহন সুপারি বিক্রি হচ্ছে হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এখানকার সুপারি।

চাষিদের অভিযোগ, গত বছরের (২০২০ সাল) চেয়ে এ বছর সুপারির দাম কম। এতে লোকসান আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। জেলায় সুপারির বাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সুপারি চাষের উন্নয়নে আরো গবেষণা ও সুপারিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা খুবই দরকার। কিন্তু কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে না।।

কৃষিবিদ-মোস্তফা ইমাম যুগান্তরকে বলেন-সুপারি জেলার মধ্যে রায়পুর উপজেলার জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত। যে পরিমাণ সুপারি বাগান রয়েছে সেই সুপারিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করে রূপান্তর করতে পারলে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া থেকে যে সুপারি বাংলাদেশ আমদানি করতে হয় সেটা তো আমদানি করতে হবেই না। বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বহির্বিশ্বে সুপারি রপ্তানি সম্ভব। শুধুমাত্র রায়পুর হতেই এ সুপারি নিয়ে কোটি টাকার ওপরে ব্যবসা করা সম্ভব। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে জর্দা তৈরি করে সেই জর্দার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো সুপারি। মানসম্মত বা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সুপারি তৈরি করতে পারলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই আমাদের সম্ভাবনাময় বিরাট বাজার তৈরি হতে পারে। সুপারি বাগান ভিত্তিক কৃষি শিল্প স্থাপন করা সম্ভব হল সুপারি চাষাবাদই প্রত্যেকটা কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট। কৃষকদেরকে গতানুগতিক ভাবে সুপারি চাষের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল না থেকে সুপারি বাগানগুলোর প্রতিও যত্নশীল হওয়া খুবই জরুরী। সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও পানি ব্যবস্থাপনা করলে সুপারির আকার বড় হবে ফল ঝরে পড়া কমে যাবে কৃষক লাভবান হবে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘৫০০ কোটি থেকে ৬০০ কোটি টাকার অর্থের এই আবর্তনকে কিভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায় তার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।’গাছ পাকা সুপারি বিক্রি ছাড়াও আরও দু’ভাগে সুপারি প্রক্রিয়া হয়ে থাকে এ অঞ্চলে। একভাগ পানিতে ভিজিয়ে অপর ভাগ শুকিয়ে। ৭০ ভাগ সুপারি পুকুরের পানিতে ভিজিয়ে বাইরে সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। শুকনো সুপারি বিক্রি হচ্ছে টন প্রতি ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকায়।