কলাপাড়ায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর আবাসস্থল

0
কলাপাড়ায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর আবাসস্থল

এস কে রঞ্জন: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এখন ডেঙ্গুর ঘর। উপজেলা জুড়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হলেও ডেঙ্গুর বংশ বিস্তারে গোটা হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর আবাসস্থল বানিয়ে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ইনডোর থেকে আউটডোর সর্বত্রই ময়লার স্তুপ। ড্রেন থেকে শুরু করে বাথরুমে তিন চার ইঞ্চি পরিমান ময়লা,দূর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় মশা,মাছি ভো ভো করছে। হাসপাতালের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম থাকলেও তা স্তুপ করে রাখা হচ্ছে বিক্রির জন্য। রোগীরা নাক চেপে বাথরুমে গেলেও এ ময়লা পরিস্কারে কোন উদ্যোগ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বাথরুমে যেন কয়েক ইঞ্চি পানি জমে আছে। শ্যাওলা ধরা বাথরুমের কোনে স্তপ করে রাখা হয়েছে ময়লা।একই চিত্র বাহিরেও। আর ভিতরের চিত্র আরও ভয়াবহ। দূর্গন্ধে রোগীরা অতিষ্ট হয়ে প্রতিতবাদ করলেই তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে পরিচ্ছন্ন কর্মী ও নার্সরা এ অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। কলাপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে হাসপাতালের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য চুল্লি করে দেয়া হলেও সেই চুল্লিটিই যেন ঢেকে দিয়েছে ক্লিনিকাল বর্জ্যতে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ হোসেন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশালে প্রেরণ করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি শেষে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এ দূরাবস্থা দেখে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান ও পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার। কলাপাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডে বুধবার ডেঙ্গু নিধনে পৌরসভার পক্ষ থেকে ঔষধ ছিটানো কার্যক্রম দেখতে এসে বিস্ময় প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপস্থিত শতশত মানুষ। গোটা হাসপাতালের পয়ঃনিস্কাশনের ড্রেন,বাথরুম ঠিক কবে পরিস্কার করা হয়েছে তা কেউ বলতে পারেনি। হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরে ময়লার স্তুপ জমা করে রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়া সিপিপি’র কর্মী শহীদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হওয়ার জন্য। কিন্তু হাসপাতালই যদি হয় ডেঙ্গুর ঘর তাহলে মানুষ কোথায় যাবে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জে এইচ খান লেলীন তিনি বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারনে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারছেন না। তারাও কাজ করছেন।