রায়পুরে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আ.লীগের ২২ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

0

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫১ জন প্রার্থী। স্থানীয় সাংসদ এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরীর ছোট শ্যালক সেচ্ছেসেবকলীগ নেতা রায়পুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সফিউল আযম চৌধুরি সুমন ২য়বারের মতো বিনাপ্রতিদন্দিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্য ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে ২২ জন মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ৪ নভেম্বর যাচাই-বাছাই এবং ১১ নভেম্বর মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বলে জানাযায়।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর)- সন্ধায়-রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ হারুন মোল্লা, মোঃ শরীফ হোসেন, মোস্তাক আহম্মদ ও নুর মোহাম্মদ ৫১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন,, নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৮ নভেম্বর রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ৫১ জন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী ১০০ ও পুরুষ মেম্বার ৪৬০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত না থাকায় স্বতন্ত্র নামে একক প্রার্থী দিয়েছেন বিএনপি,জাতীয়পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। মোট ৫২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে ৪ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহিদ উল্লাহ। এখানে তিনি ছাড়াও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর উল্যা দুলাল হাওলাদার, আওয়ামীলীগ নেতা ইলিয়াছ হাওলাদারসহ৪ জন।

উত্তর চরবংশীতে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার। তিনি ছাড়াও সেখানে প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন নেতা মাহমুদুল ইসলাম।

চরমোহনা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সফিক পাঠান নৌকার চিঠি পেয়েছেন। এখানেও প্রার্থী হিসেবে ফরম নিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ আ’লীগ ও ইসলামি আন্দোলনসহ ৬ প্রার্থী।

সোনাপুর ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিএম ইউছুফ জালাল কিসমত। এছাড়া প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদ চৌধুরীসহ ৩ বিদ্রোহী; বিএনপি নেতা ইকতিয়ার উদ্দিন সোহাগ, জামায়াত নেতা আবুল কাশেম, জাতীয়পার্টি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ মোট নয়জন।

চরপাতা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম এবার নৌকার মনোনয়ন পাননি। এখানে পেয়েছেন নতুনমুখ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মোঃ মামুন রশিদ। এ ইউনিয়নে তাঁরা দু’জন ছাড়াও ফরম নিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমসহ ২জন, বিএনপি নেতা হেফজুল্লা গুনু ও বিল্লাল হোসেন কবিরাজ।

কেরোয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহীনুর বেগম রেখা আবারও নৌকার চিঠি পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে তিনি ছাড়াও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ফরম নিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, নুর আলম চৌধুরী, শামছুল আলম ভূঁইয়া সহ দুইজন ও জামায়াত নেতা মোঃ ইউনুচ।

বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী আবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও ফরম নিয়েছেন আওয়ামীলীগনেতা সাবেক চেয়ারম্যান আনছার উল্যা, হাসান আহাম্মদসহ; ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহম্মদ ও জামায়াতের আমীর মনজুল কবির।

দক্ষিণ চরবংশীতে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর সালেহ মোঃ মিন্টু ফরায়েজী। তিনি ছাড়াও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ মোল্লাসহ ইসলামী আন্দোলন নেতা মাঈন উদ্দিন।

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বেপারী এবার দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এখানে নতুন মুখ হিসেবে নৌকা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য হাওলাদার নুরে আলম জিকু। তাঁরা দু’জন ছাড়াও এখানে ফরম সংগ্রহ করেছেন আ’লীগের চার নেতা এবং জাতীয় পার্টির মোঃ হাসানুজ্জামান।

রায়পুর ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সফিউল আযম সুমন চৌধুরী।।তিনি বিনা প্রতিদন্দিতায় ২য়বারের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে নির্বাচন কর্মকর্তা জানান।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, যিনি আমার ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন তিনি অতীতে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করায় তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁকেই নৌকা দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। নেতাকর্মীদের অনুরোধেই আমি প্রার্থী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হবো।

দক্ষিণ চরবংশীতে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর সালেহ মিন্টু ফরায়েজী বলেন, আমি দল থেকে অব্যাহতির বিষয়টি জানি না। তৃণমূল থেকে আমার নাম না পাঠানো হলেও কেন্দ্র থেকে আমাকে নৌকার চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলার কয়েকজন নেতা আমার বিরুদ্ধে আবদুর রশিদ মোল্লাকে প্রার্থী করিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর উল্যাহ দুলাল হাওলাদার বলেন, একজন বিতর্র্কিত ব্যক্তিকে নৌকা দেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকার কোনো উন্নয়ন করেন না। তাই জনদাবীর প্রেক্ষিতে আমি প্রার্থী হয়েছি।

উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী মোঃ শহিদ উল্যাহ বলেন, সভানেত্রী এবার নিয়ে ৩ বার আমাকে নৌকা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। নৌকার বিরুদ্ধে দুলাল হাওলাদার প্রার্থী হয়েছেন। বিষয়টি দলীয় নেতৃবৃন্দ দেখবেন।।

রায়পুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, যারা আওয়ামীলীগ করেন তাঁরা নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে পারেন না। বিষয়টি যেহেতু এখনো নিশ্চিত নয় তাই আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার পর কেউ যদি নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন তবে দলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রায়পুরের সাংসদ অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, মনোনয়নপত্র প্রতাহার পর কারা কারা নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন তা দেখে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা হবে। রায়পুর ইউনিয়নে সফিউল আযম চৌধুরী সুমন নৌকা প্রতিক নিয়ে বিনাপ্রতিদন্দিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।