সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে উত্তেজনা, সংঘর্ষের শঙ্কা

0
সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে উত্তেজনা, সংঘর্ষের শঙ্কা

মুলাদী প্রতিনিধি: বরিশালের মুলাদীতে সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সোনামদ্দিন বন্দরের তোহা বাজারের জমি নিয়ে বন্দর কমিটির সদস্য ও দখলকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

রোববার বেলা ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা জমি উদ্ধারের পরে ফের দখলের চেষ্টা করলে বন্দর কমিটির সদস্যরা বাধা দেন। এনিয়ে দুই পক্ষে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ওই জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন সোনামদ্দিন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।

সোনামদ্দিন বন্দরের ইজারাদার মো. নাসির উদ্দীন মোল্রা বলেন, গতকাল রোববার বোয়ালিয়া গ্রামের হযরত আলী হাওলাদারের ছেলে সালাউদ্দিন কাওছার ও তার ভাই জুয়েল হাওলাদার, সুজন হাওলাদার, সেলিম হাওলাদার সহ ১৫-২০ জন লোক ওই জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কর্মকর্তা ফিরে যাওয়ার পর পর সালাহ উদ্দীন কাওসার ও তার লোকজন আবার ভবন নির্মাণ শুরু করে। পরে বন্দর কমিটি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভবন নির্মাণ প্রতিহত করেন। এনিয়ে ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাণকারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের শঙ্কা দেখা দেয়। সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসন স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্দর কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ মোল্লা বলেন, সোনামদ্দিন বন্দরের তোহা বাজারে বেশ কিছু সরকারি জমি রয়েছে। ওই জমিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা বিভিন্ন জিনিস বেচা কেনা করে থাকেন। তোহাবাজার এলাকার সাধারণ মানুষের ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। অবৈধভাবে দখলেরর মাধ্যমে সেখানে দোকান নির্মাণ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর দখলদারেরা ওই সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন। এতে বন্দর কমিটির সদস্যরা ও ইজারাদার তাদের বাধা দিলে তারা বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. আনসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মানের কাজ বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরদিন ১৯ অক্টোবর ব্যবসায়ীরা সরকারি জমি রক্ষার দাবিতে বন্দরে মানববন্ধন করেন এবং সহকারী কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

এ ব্যাপারে সালাহ উদ্দীন কাওসার বাজারের কমিটির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আনিস জমাদারের কাছ থেকে ঘরসহ জমি কেনা হয়েছে। সেই জমিসহ পাশের কিছু জমিতে ভবন নির্মাণ শুরু করা হয়েছিলো। সরকারি জমি দখল করা হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা বলেন, সোনামদ্দিন বন্দরের খাস জমি দখল করে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।