চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: দুই দলের সহ-সভাপতিসহ আহত ১৫, এলাকায় উত্তেজনা

0
চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: দুই দলের সহ-সভাপতিসহ আহত ১৫, এলাকায় উত্তেজনা

ওসমান গনিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শিবিরের উপজেলা সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভা শেষে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পিকআপ ভ্যানে করে ফিরছিলেন। হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খান ও গাজী ইয়াছিনদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিএনপি: উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান খান, মামুন, নাজমা বেগম ও নার্গিসসহ ১০ জন। জামায়াত-শিবির: উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত কর্মী রাসেল, রবিউল হোসেন রকি ও রাসেলসহ ৫ জন।

আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির মু. বেলাল হোসাইন অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ জনসভা শেষে ফেরার পথে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে শিবিরের উপজেলা সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম রাজু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, জামায়াত-শিবিরই প্রথমে হামলা চালিয়েছে। কুমিল্লার দক্ষিণ জেলা বিএনপির সমন্বয়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।