উল্লাপাড়ায় সুজা মাঠে সরিষা বহনে খাটছে ঘোড়াগাড়ি

0
উল্লাপাড়ায় সুজা মাঠে সরিষা বহনে খাটছে ঘোড়াগাড়ি

উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাথারের সুজা মাঠে সরিষা ফসল বহনে প্রায় ৪০ টি ঘোড়াগাড়ি খাটছে। পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়াগাড়িগুলো এসেছে। সকাল থেকে শেষ বিকেল অবধি ঘোড়াগাড়ি করে মাঠ থেকে সরিষা কৃষকদের চাতাল খোলায় বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আবাদি জমি সুজা মাঠ এলাকায় বলে জানা গেছে। কৃষকদের কথায় সুজা মৌজায় প্রায় চার হাজার বিঘা আবাদী জমি আছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারেও সুজার শত শত বিঘা জমিতে সরিষা ফসলের আবাদ হয়েছে। পাথার এলাকার সুজা মাঠে সরিষা ফসলের ভালো ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে সরিষা তোলা ( কাটা ) শুরু হয়েছে।

আবাদী জমির সরিষা ফসল ঘোড়ায় টানা ঘোড়াগাড়িতে পরিবহন করা হচ্ছে। ঘোড়াগাড়িতে কৃষকদের উঠোনের চাতাল খোলায় বয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০ টি ঘোড়াগাড়ি এসেছে। জানা গেছে গত দিন পাচেক হলো ঘোড়াগাড়ি মালিক চালকেরা ঘোড়াগাড়ি নিয়ে এসেছেন। এরা পেশাদার । ঘোড়াগাড়ি খাটিয়ে আয়ের টাকায় এদের জীবন-সংসার চলে বলে জানানো হয় ।

গত দিন সাতেক হলো সুজা এলাকার মাঠ থেকে পাকা সরিষা তোলা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সুজা এলাকায় মাঠ থেকে অনেকগুলো ঘোড়াগাড়িতে সরিষা ফসল বোঝাই দিয়ে সুজা গ্রামের কাছাকাছিতে কৃষকদের চাতাল খোলায় বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত ছয় দিন আগে পাবনার আতাইকুলা থেকে মো. আশরাফ আলী ও মো. আলাই মিয়া ঘোড়াগাড়ি নিয়ে সুজা এসেছেন। সুজা মাঠ থেকে দুটি ঘোড়াগাড়িতে সরিষা ফসল বোঝাই দিয়ে কৃষক আশিক আহমেদের চাতাল খোলায় নিতে দেখা গেছে। প্রতিবেদককে কৃষক মো. আশিক আহমেদ বলেন বারো বিঘা জমিতে সরিষা ফসলের আবাদ করেছেন। এক বিঘা জমির সরিষা তুলতে কামলারা এক হাজার টাকা নিচ্ছেন।

আর জমি থেকে সরিষা বয়ে চাতালে নিতে বিঘা প্রতি এক হাজার টাকা নিচ্ছেন। ঘোড়াগাড়িতে সরিষা বহনে তাদের সুবিধা হয়েছে। সরিষা তুলে মাঠে শুকিয়ে চাতালে নেওয়া হচ্ছে। সুজা গ্রামের কৃষক কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় ঘোড়াগাড়িতে সরিষা বয়ে নিতে তাদের খরচ বেশ কম হচ্ছে। কামলা দিয়ে মাথায় বয়ে নিতে খরচ বেশি হয়। আর মাঠ থেকে চাতাল খোলা অনেক দুরে হওয়ায় মাথায় বয়ে নেওয়ার কামলা কেউ দেন না বলে জানা গেছে। পাবনার টেবুনিয়া থেকে ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসা আমজাদ হোসেন বলেন তারা ছয় জন ঘোড়াগাড়ি নিয়ে এসেছেন। কাশিনাথপুর এলাকা থেকে মিঠু মিয়া ও আরো চারজন তিন দিন হলো ঘোড়াগাড়ি নিয়ে এসেছেন। সাথিয়া থেকে আঃ রহমান , আছাদুর রহমান ও আঃ মান্নান ঘোড়াগাড়ি এনে সরিষা বহনে খাটছেন। এরা গত কয়েক বছর ধরে সরিষা ফসল তোলা কালে সুজায় ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসেন বলে জানান। ।

পাবনার আটঘরিয়া থেকে ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসা মো. রমজান আলী এক বিঘা জমির সরিষা ফসল মাঠ থেকে ঘোড়াগাড়িতে করে কৃষকের উঠান চাতালে নিতে এক হাজার টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। তিনি একা নয় সুজা এলাকায় সরিষা ফসল বয়ে দিতে ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসা সবাই বিঘা প্রতি এক হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। তবে কেউ কেউ কাছাকাছি জমি হলে টাকা কিছুটা কম নিচ্ছেন। জানা গেছে সরিষা বয়ে নেওয়ায় ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি তারা ঘোড়াগাড়ি নিয়ে খাটছেন।

প্রতিবেদককে ঘোড়াগাড়ি মালিক চালকেরা বলেন এখন সুজা এলাকায় সরিষা ফসল বহনে ঘোড়াগাড়ি নিয়ে এসেছেন। আবার ধান বা অন্যান্য ফসল কাটার সময়ও সুজা এলাকায় ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসবেন। কৈবর্তগাতী গ্রামের কৃষক আলেফ মিয়া ও সুজা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান তারা এলাকার মজুরদের দিয়ে জমি থেকে সরিষা তুলে রাখছেন। এরপর দুতিন দিন সে সরিষা মাঠে রেখে শুকানোর পর ঘোড়াগাড়িতে বয়ে নেওয়া হয়। সরিষা ফসল তোলার পর সেসব জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে বলে কৃষকেরা জানান।

সুজা এলাকায় আসা ঘোড়াগাড়ি চালক মালিকেরা দিনভর মাঠে কাজ করেন আর সুজা বাজারের কাছাকাছিতে ভাওড় বানিয়ে থাকছেন। ঘোড়াগাড়ি নিয়ে ভাওড়ে থাকা আঃ রহমান বলেন সরিষা তোলা শেষ হলে তারা নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবেন। অনেকেই আবার বোরো ধান কাটাকালে ঘোড়াগাড়ি নিয়ে আসবেন।