কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজা। তবে এক বক্তব্যে নিজেকে ‘ওপরওয়ালা’ হিসেবে সম্বোধন করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সমর্থকদের প্রতি বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুফতি আমির হামজা হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সরব হন। তিনি জানান, মেডিকেল ও সদর হাসপাতাল নিয়ে অনেক লিখিত অভিযোগ তার কাছে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ওনারা প্রথমে ভুল স্বীকার করেছেন এবং মাফ চেয়েছেন। তারা বলেছেন কিছু বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ‘ওপরওয়ালার’ দোষ রয়েছে। আমি পরিষ্কার বলেছি, কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা হবে, কিছু হলে আমাকে জানাবেন।”
হাসপাতালে প্রচলিত ঘুষ বা ‘স্প্রিড মানি’ এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে গোপন হাতের কথা জানিয়েছেন। আমি সরাসরি বলে দিয়েছি, কেউ যদি দুই নাম্বারি করতে চায়, তবে সরাসরি বলবেন—টাকা মাওলানার কাছে দেওয়া আছে, আপনারা তার কাছে যান। কুষ্টিয়ায় এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে, সেটা আমি দেখব।”
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার সভা শেষে এমপি আমির হামজা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও দ্রুতই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কুষ্টিয়াবাসী একটি ‘সুখবর’ পাবেন।
এমপির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোর ৫টায় নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা কটু কথা বলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “খারাপের বিপরীতে খারাপ কথা বলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না। সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলুন অথবা এড়িয়ে যান।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মিডিয়া নিউজ ‘টুইস্ট’ (বিকৃত) করে প্রচার করছে। মিথ্যার ওপরে সত্য অবশ্যই জয়ী হবে।”

