মন খারাপ বোরোধান চাষির জ্বালানি তেল, সার কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ

0

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে|

তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই| জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান চাষে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে| অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় মৌসুমের শুরুতে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা| স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিকাংশ চালকলমালিকের গুদামে আমদানি করা (এলসি) চালের মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মিলাররা| ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম|

বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে| উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-১৬, বিনা ২৫, হাইব্রিডসহসহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে| এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন|

ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা| যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, এবার ফলন ভালো হয়েছে; তবে মাঠের কৃষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা| তাদের ভাষ্য, অনিয়মিত আবহাওয়া, রোগবালাই ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি| উপরন্তু বাজারে দাম কম থাকায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে| তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের অসামঞ্জস্যে কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠলেও স্বস্তি ফিরছে না| উপজেলার পারইল কুদবীর এলাকার কৃষক পাত্রাস মার্ডী জানান, বর্গা নিয়ে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন| প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা| ইতোমধ্যে দুই বিঘার ধান কেটে ৭৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন|

এতে বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান হয়েছে| বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৩৫ মণ করে চিকন (মিনিকেট) ধান পেয়েছেন| পলিশিবনগর এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, তিনি ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন| তার মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে এবং দামও কম| এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন| তিনি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান|

ফুলবাড়ী উপজেলার সেনড়া এলাকার ধান ব্যবসায়ী সৈয়দ খাদেমুল ইসলাম বলেন, মোটা ধান ৭৫ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা ১৫০০থেকে ১৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের প্রতিবস্তা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ টাকা, চিকন মিনিকেট ২১০০ টাকা এবং ৯০ জিরা জাতের ৩৫০০ টাকায় কেনা হচ্ছে|

দাম কম হওয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, মোকান থেকে এর বেশি দামে ধান নিচ্ছে না বলেই ধানের দাম বাড়ছে না| তবে আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে|

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে| এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ মণ ফলন হচ্ছে| বোরো ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের পাশাপাশি হারবেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটাই-মাড়াই চলছে| আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকরাও দ্রুত তাদের খেতের ধান গোলাই তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন|