হাবিবুর রহমান সাগরঃ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সাথে সেনা সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি চায়না রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ তাজা বুলেট ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের বাবুরাপাড়া ও করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও নিমরপত্তা সূত্র জানায়, জুম্ম জনগণের অধিকারের নামে সক্রিয় পাহাড়ি দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (মূল)-এর সশস্ত্র ক্যাডাররা ওই এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে জড়ায়। নিজেদের শক্তির জানান দিতে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দিকবিদিক ছুটতে থাকেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে অকুস্থলে ছুটে যায় খাগড়াছড়ি জোনের একটি চৌকস সেনা টহল দল।
সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দমে না গিয়ে উল্টো সেনা টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় নিজেদের আত্মরক্ষা এবং জানমালের সুরক্ষায় সেনাসদস্যরাও কালক্ষেপণ না করে পাল্টা গুলি (কাউন্টার ফায়ার) চালায়। সেনাবাহিনীর এমন কঠোর ও মোক্ষম জবাবের মুখে টিকতে না পেরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
সন্ত্রাসীরা পিছু হটার পর পুরো এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১টি আধুনিক চায়না রাইফেল, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ (বুলেট), ২টি এফসিসি (FCC) সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামরিক ও লজিস্টিক সরঞ্জাম
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে কোনো সেনা সদস্য হতাহত হননি। বর্তমানে পুরো এলাকা সেনানিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অভিযান সফল হওয়ার পর খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম, পিএসসি সাংবাদিকদের জানান, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন “খাগড়াছড়ি জোনের আওতাধীন কোনো এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, পাহাড়ে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং যেকোনো সশস্ত্র উগ্রবাদী তৎপরতা দমনে জোন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পর লোগাং ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

