ধামইরহাট প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাটে মাদরাসা পড়ুয়া এক অবুঝ শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকারের (পাশবিক নির্যাতন) চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই জঘন্য অপরাধের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মমিনুল হককে (২৬) গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার ‘দারুল উলুম কওমী হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্ত মমিনুল হক ওই মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সে পার্শ্ববর্তী পত্নীতলা উপজেলার বরইল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে এশার নামাজের সময় ঘনিয়ে এলে শিক্ষক মমিনুল হক মাদরাসার সব শিক্ষার্থীকে পাশের মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য পাঠিয়ে দেন। তবে বিশেষ কথা আছে বলে ১০ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী শিশুটিকে কৌশলে মাদরাসার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নেন তিনি।
সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন ওই শিক্ষক।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করেন। বাবা-মাকে ছাড়াই অবুঝ শিশুটি ওই মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে আসছিল।
শিক্ষকের এই পৈশাচিক আচরণের পর শিশুটি কোনোমতে ঘটনাটি মুঠোফোনে ঢাকার কর্মরতা তার বাবা-মাকে জানায়। সন্তান সম্ভ্রম ও মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছে শুনে বাবা-মা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মাদরাসার সভাপতিকে অবহিত করেন।
ঘটনার সত্যতা পেয়ে মাদরাসার সভাপতি নূর নবী বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। গতকাল বিকেলে মাদরাসা চত্বরে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ধামইরহাট থানা পুলিশ লম্পট শিক্ষক মমিনুল হককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ওসি মিন্টু রহমান আরও জানান, গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মমিনুল হককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

