শিশু রামিসা হত্যা: আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী

0
শিশু রামিসা হত্যা: আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী

আজকের ডেস্কঃ মিরপুরের পল্লবীতে ফুটফুটে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃসংশভাবে মাথা কেটে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন মহল। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)। আদালত অঙ্গনে ঘাতক সোহেল রানার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না ঢাকা বারের কোনো সদস্য।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন “ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিশু রামিসা হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত বা কোনো আসামির পক্ষে ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব বা মামলা পরিচালনা করবেন না।”

পৈশাচিক এই অপরাধের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের এমন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ নাগরিকরা।

গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ঘটে যায় এই লোমহর্ষক ঘটনা। পুলিশ জানায়, সকালে রামিসা তার বাসা থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকাতে রামিসার মাথা ও দেহ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ঘাতক।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। তবে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পর পরই গা ঢাকা দেওয়া ঘাতককে ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। অবশেষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ঘাতক সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ বিচারকের সামনে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে নৃশংসভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। নিজের কৃতকর্মের বিবরণ দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রামিসার পরিবার ও এলাকাবাসী এখন এই নরপিশাচের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানাচ্ছেন।