ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজ শেষে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও এনসিপির পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান নিয়ে মধ্যরাতে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। কথা বলার একপর্যায়ে সাহেদের পেছন থেকে কিছু যুবক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে লক্ষ্য করে আচমকা ডিম নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে এনসিপির কয়েকজন কর্মী আহত হন।
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী মব ও সংঘাত উসকে দিতে ঝিনাইদহে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডিম নিক্ষেপের পর পাটোয়ারীর সঙ্গে থাকা ‘শিবিরের সন্ত্রাসীরা’ সাধারণ জনতার ওপর গুলি করার চেষ্টা চালায়।
পোস্টে তিনি অস্ত্রধারী দুই যুবকের পরিচয়ও প্রকাশ করেন সিয়াম উদ্দিন তুর্য: (পাঞ্জাবি পরিহিত), পিতা: জামায়াত নেতা সল্টু মাস্টার, কোর্টপাড়া, ঝিনাইদহ। আশিক: (টি-শার্ট পরিহিত), কাষ্টসাগরা গ্রাম, শিবিরের নেতা।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক অনতিবিলম্বে এই দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অপরদিকে, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল এই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেকের মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনতাই করা হয়েছে।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন “আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইনশৃঙ্খলার এই করুণ অবস্থা হয়, তবে তাঁর পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাই। বিচার না পেলে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।”
হামলার পর লিখিত অভিযোগ দিতে বিকেল থেকেই ঝিনাইদহ সদর থানায় সশরীরে অবস্থান নেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাসীরুদ্দীন তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে “প্লিজ সেভ আস” (দয়া করে আমাদের বাঁচান) লিখে একটি পোস্ট দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তৈরি হয়।
থানা পুলিশ প্রথমে ‘সার্ভার ডাউন’ থাকার অজুহাতে মামলা নিতে দেরি করছে বলে এনসিপি অভিযোগ করলেও, অবশেষে মধ্যরাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

