৫ দিনের অনড় অবস্থান ও ৮ লাখ টাকা কাবিন: মির্জাপুরে অবুঝ সন্তান ও প্রবাসী স্বামীকে ফেলে প্রেমিককে ‘জয়’ করলেন গৃহবধূ

0
৫ দিনের অনড় অবস্থান ও ৮ লাখ টাকা কাবিন: মির্জাপুরে অবুঝ সন্তান ও প্রবাসী স্বামীকে ফেলে প্রেমিককে ‘জয়’ করলেন গৃহবধূ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ ‘প্রেম মানে না কোনো বাধা, মানে না সামাজিক রীতিনীতি’—প্রবাদটি যেন আরও একবার বাস্তব রূপ পেল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু সন্তান এবং সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে থাকা প্রবাসী স্বামীকে অবলীলায় পেছনে ফেলে, টানা পাঁচ দিনের অনশন ও অনড় অবস্থানের পর অবশেষে নিজের পরকীয়া প্রেমিককে ‘স্বামী’ হিসেবে জয় করে নিয়েছেন সানজিদা নামের এক গৃহবধূ।

গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন নাটকীয়তার অবসান ঘটে ২৩ মে শনিবার রাতে, যখন ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে (কাবিনে) ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমিকের চার হাত এক করে দেওয়া হয়। উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বালিয়াজান গ্রামে ঘটা এই ঘটনাটি এখন পুরো জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রীতিমতো ভাইরাল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ফারুকের স্ত্রী সানজিদার সঙ্গে পাশের বালিয়াজান গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে সাব্বিরের গত চার বছর ধরে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রী-সন্তানের কাছে দেশে ফেরেন ফারুক। কিন্তু স্বামীর এই ঘরে ফেরাই যেন সানজিদার দীর্ঘদিনের সুপ্ত প্রেমকে প্রকাশ্যে আনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সবার অগোচরে পাঁচ বছরের সন্তান ও স্বামীকে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান সানজিদা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সরাসরি বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

এক সন্তানের জননী বিয়ের দাবিতে বাড়িতে এসে হাজির হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাব্বিরের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ঢল নামে। বেগতিক দেখে কৌশলে বাড়ি থেকে চম্পট দেয় প্রেমিক সাব্বির। ওই দিন সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঁশতৈল ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য ফিরোজা বেগম ও স্থানীয় মাতব্বররা সালিশি বৈঠকে বসেন।

কিন্তু মূল অভিযুক্ত সাব্বির পলাতক থাকায় প্রথম দিনের বৈঠক কোনো সুরাহা ছাড়াই ভেঙে যায়। তবে সানজিদা ছিলেন তার সিদ্ধান্তে হিমালয়ের মতো অটল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন “সাব্বিরের কথায় বিশ্বাস করেই আমি আমার সংসার ও বুকেরে ধন সন্তানকে ছেড়ে এসেছি। আমি মরলে এই বাড়িতেই মরব, বাঁচলে সাব্বিরের সঙ্গেই বাঁচব। এখান থেকে এক পা-ও নড়ব না।”

তার এই অনমনীয় মনোভাব দেখে মাতব্বররা শেষ পর্যন্ত তাকে সাব্বিরের মায়ের জিম্মায় রেখে আসেন। এভাবেই কাটে টানা পাঁচটি দিন।

সানজিদার এই মরনপণ অবস্থানের মুখে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলতে থাকে। অবশেষে সামাজিক চাপ ও সানজিদার একনিষ্ঠ প্রেমের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় আত্মগোপনে থাকা সাব্বির। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় সে বাড়ি ফিরে সানজিদাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে সম্মতি জানায়।

এরপর আর দেরি না করে রাতেই স্থানীয় কাজীর উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে ৮ লাখ টাকা কাবিননামায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

গতকাল রবিবার (২৪ মে) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য ফিরোজা বেগম বলেন, “মেয়েটি নিজের অনড় অবস্থানে থেকে শেষ পর্যন্ত সাব্বিরকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছে। শনিবার রাতে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ সানজিদার এই সাহসী পদক্ষেপকে ‘খাঁটি ভালোবাসার জয়’ হিসেবে আখ্যা দিলেও, স্থানীয় সমাজের একটি বড় অংশ পাঁচ বছরের নিষ্পাপ সন্তানকে ফেলে এভাবে পরকীয়া প্রেমিককে বেছে নেওয়াকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবেই দেখছেন।