বাজারে আমের দামে ধস, মাথায় হাত শার্শার চাষিদের

0
বাজারে আমের দামে ধস, মাথায় হাত শার্শার চাষিদের

শহিদুল ইসলামঃ মৌসুমের শুরুতেই শার্শার বেলতলা আম বাজারে দেখা দিয়েছে দামের ধস। গাছে ভালো ফলন হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ আমচাষিরা। পাইকার ও ক্রেতা কম থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আমের মোকাম বেলতলা বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকরা ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম নিয়ে বাজারে ভিড় করছেন। তবে আগের বছরের মতো পাইকারের উপস্থিতি নেই। ফলে বাজারে আমের দাম কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বর্তমানে বাজারে গোবিন্দভোগ আম প্রতি মণ (৪৪-৪৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। হিমসাগর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ল্যাংড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্রপালি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম।

স্থানীয় আমচাষি জামাল সরদার বলেন, “গাছে এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে পাইকার কম। যে দামে আম বিক্রি হচ্ছে, এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে পড়বে।”

শার্শার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি রাজ্জাক ও আহমেদ আলী জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে আমের দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা এখন লোকসানের মুখে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতে সাধারণত বেলতলা বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারদের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার সেই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনাও কম হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মৌসুমের শুরুতেই অপরিপক্ব আম বাজারে আসায় অনেক ভোক্তা আম কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু এবং ঈদের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক আম ব্যবসায়ী বলছেন, “এভাবে দাম কম থাকলে চাষিরা ভবিষ্যতে আমচাষে আগ্রহ হারাবে। অনেকেই হয়তো আমগাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হবে।” উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে। এখানে প্রায় ৪ হাজার ৬৬৮ জন আমচাষি রয়েছেন। শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়। পাশাপাশি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার আমও বেলতলা বাজারে বিক্রি হয়।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা জানান, ঈদের আগে বাজারে প্রতি মণ আম ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও পাইকার সংকটের কারণেই তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।